আনকথা #১৫

কোনও এক ব্যস্ত কাজের দুপুরে তার মন ছেয়ে মেঘ আসে। তার দৃষ্টি  বিছিয়ে যায়  খোলা মাঠের সীমানা বরাবর গাছপালার গাঢ় আবছায়া পার হয়ে ওপাশে নদীর বুকে। ওপার থেকে সজল হাওয়ায় ভেসে আসছে বৃষ্টিফুলের রেণু, নদীর বুকে জলে হাওয়ায় সে এক আশ্চর্য কুহক। দূর থেকে দেখে অনাগত জীবনের মত লাগে- অজানা, ভয়ের, কিন্তু দুর্নিবার তার টান। নদীর বুক পেরিয়ে, মাঠ ভরিয়ে বৃষ্টি এসে যায় তার চৌকাঠে।  মনেও কি?! সে দেখে কামিনীর সাদা থোকায় জলের ধারা, সবুজ লেবুপাতার ঘ্রাণ তার স্নায়ুপথ আচ্ছন্ন করে। 
অন্তরে বাহিরে ভিজে যেতে চেয়ে দিকভ্রান্ত সে দেখে তার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়ানো নিদাঘমাস। চোখের কোণ খুঁজেও এক বিন্দু জল মেলে না তার। জীবন তাকে ছুটিয়ে চলেছে তার মাঠ-গাছপালা-নদী থেকে অনেক দূরে। আনখশির ক্লান্ত এই নিজের জন্য একটু শান্তির অবসর ছাড়া আর কিছুই তার অভিপ্রেত নেই। এইসব গুঁড়ো গুঁড়ো ব্যথা তাকে অভিমান এনে দিতো কোনও এক দিন। অনেক স্রোত বেয়ে এসে আজ সে নিজেকে ভুলিয়ে ফেরে অনিবার্য দৈনন্দিনতায়। 
আচমকা একদিন পথ ছেয়ে ঝরে থাকা ভেজা বকুল তাকে দুদন্ড থামায় যখন, অপ্রত্যাশিত  কুঁড়ি ধরে তার স্বর্ণচাঁপার গাছে, শ্রান্তির শ্যাওলা জমা তার মনের দেওয়ালে আনন্দ চুঁইয়ে পড়ে হঠাৎ পাওয়া আলোর মতো। 
 বহু অবিশ্বাস, যুক্তি-তর্কের উতরোল পার করে এসে আজ সে বিশ্বাস করে যা পাওয়া, যেটুকু পাওয়া সেটুকু নির্দিষ্টই তার, বাকী যা তা হাত থেকে ঝরে গেছে বালির মতোই।

 

Comments

Popular posts from this blog

আনকথা #১২

অলিখিত #৩

অলিখিত #৪